মালদ্বীপ টুরিস্ট ভিসা 2026

eVisaCheckBD

মালদ্বীপ, তার স্ফটিক স্বচ্ছ জল, সাদা বালির সমুদ্র সৈকত এবং বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে একটি স্বপ্নের গন্তব্য। বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মালদ্বীপ ভ্রমণ অত্যন্ত আকর্ষণীয় কারণ এটি ভিসা-মুক্ত গন্তব্য এবং ঢাকা থেকে তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। এই আর্টিকেলে আমরা মালদ্বীপ টুরিস্ট ভিসা ২০২৫ সালের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রবেশের শর্তাবলী, এবং ভ্রমণের টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের তথ্যগুলো মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৫ এর ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে।

মালদ্বীপে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা নীতি

 

মালদ্বীপ সকল জাতীয়তার পর্যটকদের জন্য আগমনের সময় ৩০ দিনের বিনামূল্যে টুরিস্ট ভিসা প্রদান করে। বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্যও এই সুবিধা রয়েছে, এবং কোনো পূর্ব-অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তবে, প্রবেশের জন্য কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে, যা মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন আইন ২০০৭ এর ৭ ও ৮ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের মালদ্বীপে প্রবেশ নিষিদ্ধ, তবে এটি বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

মালদ্বীপ টুরিস্ট ভিসার প্রয়োজনীয় শর্তাবলী

মালদ্বীপে টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে:

  • পাসপোর্ট: মেশিন রিডেবল জোন (MRZ) সহ বৈধ পাসপোর্ট, যার মেয়াদ প্রবেশের তারিখ থেকে কমপক্ষে ১ মাস বাকি থাকতে হবে। মেয়াদ বাড়ানো পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ট্রাভেল ইটিনারারি: নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট এবং মালদ্বীপে থাকার জন্য নিবন্ধিত হোটেল, রিসোর্ট, বা গেস্টহাউসে প্রি-পেইড বুকিং কনফার্মেশন। বিকল্পভাবে, পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ (প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ মার্কিন ডলার) বা মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন থেকে প্রি-অ্যাপ্রুভড স্পনসরশিপ ভিসা।
  • ট্রাভেলার ডিক্লারেশন ফর্ম: ফ্লাইটের ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে IMUGA পোর্টাল (https://imuga.immigration.gov.mv/) এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে ট্রাভেলার ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ ও জমা দিতে হবে। এটি বিনামূল্যে এবং আগমন ও প্রস্থান উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
  • ইয়েলো ফিভার টিকা: যদি আপনি ইয়েলো ফিভার ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে ভ্রমণ করেন (যেমন, কিছু আফ্রিকান বা দক্ষিণ আমেরিকান দেশ), তবে ইয়েলো ফিভার টিকার সার্টিফিকেট প্রয়োজন। ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
  • অন্যান্য গন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা: পরবর্তী গন্তব্যের জন্য ভিসা এবং পাসপোর্টের বৈধতা থাকতে হবে (যদি প্রযোজ্য হয়)।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: সম্পূর্ণ ট্রাভেল ইটিনারারি থাকলেও প্রবেশের নিশ্চয়তা নেই। ইমিগ্রেশন অফিসারদের বিবেচনার ভিত্তিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

মালদ্বীপ টুরিস্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

মালদ্বীপের টুরিস্ট ভিসা আগমনের সময় (Visa on Arrival) প্রদান করা হয়, তাই পূর্ব-আবেদনের প্রয়োজন নেই। নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন: পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ সংগ্রহ করুন। ডকুমেন্টগুলো ইংরেজিতে হতে হবে বা নোটারাইজড অনুবাদ থাকতে হবে।
  2. ট্রাভেলার ডিক্লারেশন পূরণ: ফ্লাইটের ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে IMUGA পোর্টালে ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করুন।
  3. ইমিগ্রেশন কাউন্টার: মালে ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ডকুমেন্ট জমা দিন।
  4. ভিসা প্রাপ্তি: শর্ত পূরণ হলে ইমিগ্রেশন অফিসার ৩০ দিনের টুরিস্ট ভিসা ইস্যু করবেন, যা বিনামূল্যে।

ভিসা এক্সটেনশন

মালদ্বীপ টুরিস্ট ভিসা ৩০ দিনের জন্য ইস্যু করা হয়, তবে এটি অতিরিক্ত ৬০ দিনের জন্য (মোট ৯০ দিন) এক্সটেন্ড করা যায়। এক্সটেনশনের জন্য:

  • আবেদন: মালে ইমিগ্রেশন হেড অফিসে ভিসা এক্সটেনশন আবেদন ফর্ম (IM23) জমা দিন।
  • ফি: এক্সটেনশন ফি প্রায় ৭৫০ মালদ্বীপীয় রুফিয়া (প্রায় ৫,৮০০ টাকা)।
  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: পাসপোর্ট, আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, এবং থাকার ব্যবস্থার নিশ্চিতকরণ।

এক্সটেনশন আবেদন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে করতে হবে। অতিরিক্ত অবস্থানের জন্য ১৫,০০০ রুফিয়া জরিমানা বা ডিপোর্টেশনের ঝুঁকি রয়েছে।

মালদ্বীপ ভ্রমণের খরচ

  • ভিসা ফি: টুরিস্ট ভিসা বিনামূল্যে। এক্সটেনশন ফি প্রায় ৫,৮০০ টাকা।
  • ফ্লাইট খরচ: ঢাকা থেকে মালে রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইটের খরচ ৩৫,০০০-৫০,০০০ টাকা।
  • থাকার খরচ: গেস্টহাউসে প্রতিদিন ৩,০০০-৫,০০০ টাকা, রিসোর্টে ১০,০০০-৫০,০০০ টাকা।
  • দৈনিক খরচ: খাবার, পরিবহন, এবং কার্যক্রমের জন্য প্রতিদিন ৫,০০০-১০,০০০ টাকা।
  • মোট খরচ (৭ দিনের জন্য): প্রায় ৬০,০০০-১,০০,০০০ টাকা (গেস্টহাউস ভিত্তিক), রিসোর্টের জন্য বেশি।

ভ্রমণের টিপস

  • পাসপোর্টের বৈধতা: নিশ্চিত করুন পাসপোর্টে কমপক্ষে ১ মাসের বৈধতা এবং ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠা রয়েছে।
  • ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স: মেডিকেল এবং কোভিড-১৯ সম্পর্কিত খরচ কভার করে এমন ইন্স্যুরেন্স কিনুন।
  • নিষিদ্ধ জিনিসপত্র: মালদ্বীপে অ্যালকোহল, শুয়োরের মাংস, এবং ধর্মীয় উপকরণ (যেমন, বাইবেল) আনা নিষিদ্ধ।
  • স্থানীয় রীতিনীতি: মালে এবং স্থানীয় দ্বীপে ইসলামিক পোশাকের নিয়ম মেনে চলুন। রিসোর্ট দ্বীপে এই নিয়ম শিথিল।
  • ইয়েলো ফিভার ঝুঁকি: আপনি যদি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে ভ্রমণ করেন, তবে টিকার সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখুন।
  • ইসরায়েলে ভ্রমণের ইতিহাস: বাংলাদেশী পাসপোর্টে ইসরায়েলে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। মালদ্বীপেও ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ (১৫ এপ্রিল ২০২৫ থেকে)। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের গাইড পড়ুন: বাংলাদেশী পাসপোর্টে নিষিদ্ধ দেশ

FAQ

১. বাংলাদেশী পাসপোর্টে মালদ্বীপে ভিসা লাগবে?

না, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মালদ্বীপে টুরিস্ট ভিসা আগমনের সময় বিনামূল্যে দেওয়া হয়, যদি মৌলিক শর্ত পূরণ হয়।

২. মালদ্বীপ ভিসা কত দিনের জন্য বৈধ?

টুরিস্ট ভিসা ৩০ দিনের জন্য বৈধ, যা ৬০ দিন পর্যন্ত এক্সটেন্ড করা যায়। মোট থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৯০ দিন।

৩. ভিসার স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করব?

IMUGA পোর্টালে পাসপোর্ট নাম্বার এবং অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করা যায়। বিস্তারিত জানতে আমাদের গাইড পড়ুন: পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ভিসা চেক

৪. মালদ্বীপে কাজ করতে পারব?

টুরিস্ট ভিসায় কোনো প্রকার কাজ (প্রদত্ত বা অপ্রদত্ত) নিষিদ্ধ। কাজের জন্য ওয়ার্ক ভিসা প্রয়োজন, যা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

উপসংহার

মালদ্বীপ বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য একটি সহজ এবং আকর্ষণীয় গন্তব্য কারণ এটি ভিসা-মুক্ত এবং প্রবেশ প্রক্রিয়া সহজ। তবে, সঠিক ডকুমেন্ট এবং প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্টের বৈধতা, ট্রাভেল ইটিনারারি, এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চললে আপনি মালদ্বীপের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে নিচে কমেন্ট করুন এবং এই গাইড শেয়ার করে অন্যদের সাহায্য করুন!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *